বিশেষ প্রতিনিধি;
মুন্সিগঞ্জ — প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন, রোবট এবং বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ড্রোনগুলো আধুনিক সামরিক কৌশলের অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে।
তবে, আগ্রাসী ড্রোন যুদ্ধের বিস্তার প্রায়শই বেসামরিক মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে। এই ধরনের শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনগুলোকে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করার জন্য বিশ্বজুড়ে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সরাসরি অবদান রাখছেন বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গর্বিত সন্তান মতিউর রহমান রিয়াদ।
রিয়াদ কানাডার একটি স্বনামধন্য প্রযুক্তি-চালিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসেম্বলি টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান ‘আয়রন ড্রোন’-এর জটিল অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
জানা গেছে, রিয়াদের ব্যক্তিগত দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিগত পারদর্শিতার মাধ্যমে নির্মিত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি একাধিক দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মূলত আক্রমণাত্মক ড্রোন হুমকি মোকাবেলা এবং আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি এই উদ্ভাবনগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা কাঠামোকে নতুন রূপ দিচ্ছে।
রিয়াদের এই যাত্রা ব্যক্তিগত সাফল্যের ঊর্ধ্বে; এটি মুন্সিগঞ্জের এক বাংলাদেশি তরুণের বিশ্ব প্রযুক্তি মঞ্চে এক অবিস্মরণীয় ছাপ রাখার সাক্ষ্য বহন করে। বাংলাদেশে বেড়ে উঠে এখন একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি তৈরিতে অবদান রাখা গভীর জাতীয় গর্বের বিষয়।
এমন এক সময়ে যখন আধুনিক প্রযুক্তি বৈশ্বিক যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে, তখন এই উদ্ভাবনগুলোর পেছনে একজন বাংলাদেশীর শ্রম, দক্ষতা ও মেধার অন্তর্ভুক্তি জাতির জন্য অপার আনন্দ ও গৌরব বয়ে আনে। রিয়াদ দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা ব্যক্তিরাও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।
আজ লৌহজংয়ের এই সন্তান শুধু তাঁর পরিবার বা স্থানীয় সম্প্রদায়ের গর্বের উৎস নন, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জন্য এক অনুপ্রেরণা। লৌহজংয়ের তৃণমূল পর্যায় থেকে কানাডা এবং সেখান থেকে বৈশ্বিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা পর্যন্ত মতিউর রহমান রিয়াদের এই অসাধারণ যাত্রা সত্যিই উদযাপনের যোগ্য এক কাহিনী।